ভয়াল ২১ আগস্ট

69

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ আগস্ট ২০২০

আজ ভয়াল ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এইদিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

হামলার দায়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরি সহ মোট ৩৮ জনকে দণ্ডিত করেছে আদালত।

এদের মধ্যে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান গ্রেনেড হামলায় গুরুত্বপূর্ণ আসামি হলেও অন্য মামলায় তাদের ফাঁসি হওয়ায় এ মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশ চলছিলো। সমাবেশের শেষ বক্তা হিসেবে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। ঘটনাস্থলে সৃষ্টি হয় মারাত্মক আতংক। চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ঢাকার তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে এক মানব বলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।

শেখ হাসিনা অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমান ও অপর ২৪ জন এতে নিহত হন। এই হামলায় আরো ৪শ’ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন।

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে শরীরে আজীবন স্প্রিন্টার বহন করে চলেছেন। হানিফ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে শরীরে স্প্রিন্টার থাকার কারণে অস্ত্রোপাচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণ শক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় উল্লেখযোগ্য নিহতদের মধ্যে ছিলেন- আইভি রহমান, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা). মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া।

মারাত্মক আহতরা হলেন- শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ হানিফ, এডভোকেট সাহারা খাতুন, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, মাহবুবা পারভীন, এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দিপ্তী, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, মামুন মল্লিক প্রমুখ।

গ্রেনেড হামলার আলামত নষ্ট ও ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ আছে। হামলার পর বাবরের তত্বাবধানে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং এতে জজ মিয়া নামে এক ভবঘুরে, একজন ছাত্র, আওয়ামী লীগের একজন কর্মীসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অথচ পরবর্তী তদন্তে তাদের কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এ হামলার পুনরায় তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তী তদন্তে বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুরজ্জামান বাবর ঘটনার সাথে তারেক রহমান জড়িত আছেন বলে দাবি করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র তারেক রহমান ‘এ হামলার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন’।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বিচারিক আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, ‘এ মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণে দেখেছি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জঙ্গি গোষ্ঠীর সহায়তা নিয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম এ ঘটনা ঘটিয়েছে’।

মামলার রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে করা হয়েছে, তা এখন শুনানির অপেক্ষায় আছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, গ্রেনেড হামলা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি উচ্চ আদালতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে