বিদায়, সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী

45

মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী আজ সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ৩০ আগস্ট শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আবু ওসমান চৌধুরীকে সিএমএইচ ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় তাঁর করোনা ধরা পড়ে।

সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। অপারেশন সার্চলাইট-এর দুঃসংবাদ পেয়ে ১৯৭১এর ২৬ মার্চ সকালে বেলা ১১টায় তিনি চুয়াডাঙা পৌঁছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। এরপর ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার তাঁকে পদ্মা-মেঘনার ওপারে কুষ্টিয়া থেকে বরিশাল জেলা পর্যন্ত এলাকার (দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গণ) আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেন। মে মাসের শেষদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনকে দুই ভাগ করে ৮ নম্বর ও ৯ নম্বর সেক্টর গঠন করা হয়। ৮ নম্বর সেক্টরের দায়িত্বে আবু ওসমানকে নিয়োগ করা হয়। মে মাসের শেষে কুষ্টিয়া ও যশোর, খুলনা জেলা সদর, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে সেক্টর পুনর্গঠন করা হয়। এই সেক্টরের প্রধান ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম এ মঞ্জুর।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আবু ওসমান চৌধুরী।

আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ পৃথক শোক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারালো। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের কথা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে।’ শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আবু ওসমান চৌধুরীর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে