‘করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিদেশফেরত বাংলাদেশী কর্মীর সংখ্যা ‘আশঙ্কাজনক’ নয়’

29

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিদেশফেরত বাংলাদেশী কর্মীর সংখ্যা ‘আশঙ্কাজনক’ নয়, বলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। বুধবার সংসদে এক বিবৃতিতে তিনি জানান, করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে ডিপোর্টেশন সেন্টারে থাকা অনিয়মিতদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কারণে বাংলাদেশী কর্মীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ দেশে ফেরত এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ১১ হাজার ১১১ জন কর্মী দেশে ফেরত এসেছেন। তাদের অনেকেই কাজের মেয়াদ শেষে বা কাজ না থাকায় দেশে ফেরত এসেছেন। যদিও আশঙ্কা করা হয়েছিল অর্থনৈতিক মন্দা এবং করোনার কারণে প্রধান কর্মী নিয়োগকারী দেশসমূহের শ্রমবাজার বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে অনেক কর্মী বেকার হয়ে পড়বেন। কিন্তু আশার কথা এই যে এখন পর্যন্ত ফেরত আসা কর্মীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠে নাই।”

মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, “বিগত বছরগুলির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে প্রায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি-আগস্ট মাসে ৪ লাখ ৬০ হাজার কর্মী বিদেশে গিয়েছে। কিন্তু আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ৭৬ হাজার কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। এর কারণ হলো এ বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত কোন কর্মী বিদেশে যেতে পারেনি বলা চলে।”

সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী দেশে ফেরত আসা কর্মীদের পুনর্বাসনের প্রসঙ্গে বলেন, “যেসব কর্মী ফিরে এসেছেন বা আসবেন তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় বিদেশে থাকা কর্মীদের জন্য ১৩ কোটি টাকার জরুরী ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের দেশে আনা এবং ফেরত আসাদের রিইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এবং উদ্যোগ নিয়ে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে এই বিবৃতি দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে