রোহিঙ্গা ফেরাতে বিদেশী বেসামরিক পর্যবেক্ষকদের যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের রাখাইনের মূল ভূখন্ডে ফিরে যাওয়ার জন্য আস্থার ঘাটতি দূর করতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারকে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ থেকে বেসামরিক পর্যবেক্ষকদের যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘বিশ্বাসের ঘাটতি কমাতে এবং আস্থা বাড়াতে আমরা মিয়ানমারকে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ যেমন আসিয়ান, চীন, রাশিয়া, ভারত বা তাদের পছন্দের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে বেসামরিক পর্যবেক্ষকদের যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছি।’ তিনি বলেন, বিদেশী বেসামরিক পর্যবেক্ষক অন্তর্ভূক্তি ‘টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আস্থা ঘাটতি কমাতে পারে।’ রোহিঙ্গারা প্রাথমিকভাবে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাচ্ছে না কারণ তারা নিজেদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার ব্যাপারে তাদের সরকারকে বিশ্বাস করে না, জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।

রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) এর চেয়ারম্যান ভিয়েতনামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ফাম বিনহ মিনের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ‘২৭তম আসিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস’ মন্ত্রীসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। অসহায় রোহিঙ্গারা যেন সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং মর্যাদায় তাদের ভূখন্ডে ফিরে যেতে পারে, সেখানে পুনর্বাসিত এবং সমাজে পুনরায় সংহত হতে পারে, সেজন্য এআরএফ-এর অংশীদারদের কাছ থেকে সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান না করা হয়, তাহলে এ জনগোষ্ঠী উগ্রবাদের পকেটে পরিণত হতে পারে, যা একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল অঞ্চলের আশাকে হতাশায় পরিণত করতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গঠনমূলক কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আগ্রহী এবং এরপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি দলিল স্বাক্ষরিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমার ভেরিফিকেশনের পর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে এবং একই সঙ্গে সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের স্বেচ্ছায় ফিরে আসার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আজ পর্যন্ত কেউ ফিরে যায়নি এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার পরিবর্তে রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ এবং গোলাবর্ষণ চলছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। তিনি বলেন, অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সামগ্রিক সামাজিক প্রভাবের হুমকি সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে গণহত্যা থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে।

আপনার মতামত জানান

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন