ওজোন স্তর বাঁচাতে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি

17

বায়ুমমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়কারী মানবসৃষ্ট দ্রব্যগুলোর উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করলেই পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বিশ্ব ওজোন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দেয়া এক বাণীতে তিনি বায়ুমণ্ডলের জীবন রক্ষাকারী প্রতিরক্ষা স্তর সুরক্ষায় ব্যাপক হারে জনসচেতনতা সৃষ্টি, বনায়ন, বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক পরিবেশ বান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেন। এর জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারী বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু একটি দীর্ঘ সময় পুরো পৃথিবী একসঙ্গে লকডাউন হওয়ায় বায়ুদূষণ কমে প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছিলো, যা নিশ্চিতভাবে ওজোন স্তর পুনর্গঠনে সহায়ক হয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংবেদনশীল সিদ্ধান্তসমূহের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির পর তিনি দেশব্যাপী বনায়ন ও উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টিতে ব্যস্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর আমরা মন্ট্রিল প্রটোকল যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম। ১৯৯৭ সালে বায়ু দূষণ ও ওজোন স্তর ক্ষতিকারক গ্যাসের উৎপাদন ও ব্যবহার রোধে বায়ুর মানমাত্রা নির্ধারণ করে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন শুরু করেছিলাম। ২০০৮ সাল থেকে পরপর তিন দফা সরকার গঠনের ফলে আমরা ওজোন স্তর পুনর্গঠনে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা ইতোমধ্যে দেশে এইচসিএফসিসহ অধিকাংশ ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, ২০০৯ সালে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর জিডিপি’র এক শতাংশ বা দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমতুল্য অর্থ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে অভিযোজনের উদ্দেশ্যে ব্যয় করা হচ্ছে, জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ২০২০ সালের ৮ জুন মন্ট্রিল প্রটোকলের কিগালি সংশোধনীতে অনুস্বাক্ষর করে এইচএফসি ব্যবহার হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ট্রিল প্রটোকল সফলভাবে বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ও ওজোন সচিবালয় ২০১২, ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশকে প্রশংসামূলক সনদপত্র প্রদান করেছে, যা আমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং অনুপ্রেরণা।”

বর্তমান সরকার গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন বন্ধ করার লক্ষ্যে প্যারিস চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার পরিবেশ আদালত আইন-২০১০, বিপদজনক জাহাজ ভাঙ্গার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১১ এবং ২০১৪ সালে একটি সংশোধিত ও পরিমার্জিত ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।
জাতীয় পরিবেশ নীতি-২০১৮, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০১৯ এবং বিশুদ্ধ বায়ু আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা দেশে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। সম্প্রতি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন এডাপটেশন জিসিএ’র (Global Centre on Adaptation GCA) দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অফিস চালু করেছি।”

ওজোন স্তর রক্ষায় সব ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও তার ব্যবহার বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিশ্ব ওজোন দিবস ২০২০ উপলক্ষে মঙ্গলবার এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব ওজোন দিবস ২০২০’ পালিত হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পৃথিবীর সকল জীবের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওজোন স্তরের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এ দিবস উদযাপন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করে থাকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে