‘কেউ না খেয়ে থাকবে না’

8

বাংলাদেশে আর কোনদিন কেউ না খেয়ে থাকবে না। কারণ বর্তমান সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বেলা ১১টায় বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে মূল অনুষ্ঠানস্থল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত থাকে এবং প্রতিটি মানুষের ঘরে যেন খাবার পৌঁছায় সেজন্য হতদরিদ্রের মাঝে আমরা বিনে পয়সায় খাবার দিয়ে যাচ্ছি এবং এটা আমরা সব সময় অব্যাহত রাখবো। একটি মানুষও যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটি মানুষ যাতে চিকিৎসা সেবা পায় সেজন্য তাদের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছে বর্তমান সরকার। কেউ যেন পুষ্টিহীনতাতে না ভোগে, সেজন্য মায়েদেরকেও মাতৃত্বকালীন আর্থিক সাহায্য দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সদ্য প্রসূত মা বা যারা ব্রেস্ট ফিডিং করান তাদেরকেও আমরা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি, বিশাল সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের যে কর্মসূচি রয়েছে তার মাধ্যমেও আমরা আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’ খাদ্যের সাথে সাথে যাতে পুষ্টির নিশ্চয়তা হয় এবং মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়- সেটাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটি কাজের লক্ষ্য কৃষকদেরকে সুবিধা প্রদান, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, যখনই বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে তখনই খাদ্য উৎপাদনে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিশ্চয়তা বিধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যেন কোনো কষ্ট ভোগ না করে সেজন্য বর্তমান সরকার নানা প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রণোদনার প্যাকেজ অনুযায়ী কৃষকদেরকেই সবথেকে বেশি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। যাতে তাঁরা তাঁদের সাধারণ কাজগুলো (কৃষিকাজ) ভালভাবে চালাতে পারে।’ তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে ৮৬০ কোটি টাকার সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের উৎপাদিত ধান-চাল ক্রয় করেও তাদের সমর্থন দেয়ার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। কৃষির যান্ত্রিকীকরণকে তাঁর সরকার বিশেষভাবে উৎসাহিত করছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কৃষক যেন অল্পমূল্যে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ করতে পারে সেজন্য ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকী অর্থ সরকারের পক্ষ থেকেই দেয়া হচ্ছে। তাছাড়াও, কৃষির জন্য কৃষি সহায়তা হিসেবে ৯ হাজার ৫শ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে না রেখে বৃক্ষ, ফলমূল, তরি-তরকারি যা কিছুই হোক না কেন যেন উৎপাদন করেন।’

করোনাকালে বর্তমান সরকারের দেয়া প্রণোদনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, যারা করোনার জন্য কোনো কাজ করতে পারেনি তাদের জন্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা হাত পেতে টাকা নেবে না, কিনে খেতে চায় অথচ বেশি টাকাও নেই তাদের জন্য আমরা ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের ব্যবস্থা হিসেবে ২৫১ কোটি টাকা খরচ করেছি।’

খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী শম রেজাউল করিম, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে