শুরু হলো দুর্গাপূজা

করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রেখে আজ থেকে শুরু হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব। ভক্তরা পৃথিবীর সব মানুষকে করোনা মুক্ত রাখার জন্য এবার দেবীর কাছে প্রার্থনা জানাবেন। এবার ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল মহালয়া। মহালয়ার ৬ দিন পর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার রীতি থাকলেও পঞ্জিকার হিসাবে এবার আশ্বিন মাস অশুভ হওয়ার কারণে কার্তিক মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

করোনাভাইরাস আতঙ্কের আবহেই এবার দেবীপক্ষের সূচনা। মহামারীর দুর্যোগ মাথায় নিয়েই এবার মাতৃবন্দনা শুরু হলো। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কল্পারম্ভ এবং সন্ধ্যায় বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে উৎসবের প্রথম দিন ষষ্ঠী পূজা। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবছর ঢাকায় কোনো মন্ডপে কুমারী পূজা হবে না। সপ্তমী তিথিতে বিশ্ববাসীর করোনাভাইরাসমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনের জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এবারের পূজায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেছেন, অঞ্জলি দানের সময় ফেসবুক লাইভের সহযোগিতা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরাসরি অঞ্জলি হবে, এমন স্থানে ২৫ থেকে ৫০ জনের বেশি আসতে পারবেন না। সন্ধ্যা আরতির পর রাত ৯টার মধ্যে অবশ্যই পূজা মন্ডপ বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এবারের দুর্গাপূজায় প্রসাদ বিতরণ ও বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মন্ডপ, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামন্ডপ, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা, ভোলানাথ মন্দির আশ্রম,গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদ মন্ডপ, জগন্নাথ হল, ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, শাখারী বাজারের পানিটোলা মন্দিরসহ অন্যান্য মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বছর দেশজুড়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩০ হাজার ২২৫টি মন্ডপে। গতবছর ৩১ হাজার ৩৯৮টি মন্ডপে পূজা হয়েছিলো। গতবছরের তুলনায় এবার ১ হাজার ১৭৩টি মন্ডপে পূজা কম হচ্ছে। কারণ করোনাভাইরাস।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে এবার দুর্গাপূজায় শোভাযাত্রা ও প্রসাদ বিতরণ থেকে বিরত থাকার কথা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রণীত গাইডলাইনে বলা হয়েছে। এছাড়াও মন্দির প্রাঙ্গণে নারী-পুরুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পৃথক ও নির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছে। পূজামন্ডপে আগতদেরকে কমপক্ষে দুই হাত নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ এবং প্রণাম শেষে বের হয়ে যেতে বলা হয়েছে। সম্ভব হলে পুরো পথ পরিক্রমা গোল চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট করে দেয়ার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ আছে। পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ভক্তের সংখ্যা অধিক হলে একাধিকবার পুষ্পাঞ্জলির ব্যবস্থা করতে গাইডলাইনে বলা হয়েছে।

পূজামন্ডপে আগত সবার মাস্ক সঠিকভাবে পরিধান করা বাধ্যতামূলক। সঠিকভাবে মাস্ক না পরলে কাউকে পূজামন্ডপে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। এছাড়াও মন্দিরের প্রবেশপথে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া এবং শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মাল স্ক্যানার রাখার কথাও বলা হয়েছে।

গাইডলাইনে সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে কাউকে পূজামন্ডপে প্রবেশ না করতে বলা হয়েছে। পূজামন্ডপে আগতদের হাঁচি ও কাশির সময় টিস্যু রুমাল বা কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকতে হবে। ব্যবহৃত টিস্যু এবং বর্জ্য ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ঢাকনাযুক্ত বিন রাখতে এবং জরুরিভাবে তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়।

আপনার মতামত জানান

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন