সেরে উঠছে না ওজোন স্তর

টানা শীত, হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা এবং শক্তিশালী সার্কামপোলার বাতাসের ফলে 2020 সালে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের ওজোন স্তরে বিশাল গর্ত তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে। এটি নভেম্বরেও এভাবেই থাকবে বলে এনওএএ এবং নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

2020 সালের 20 সেপ্টেম্বর ওজোন স্তরের গর্তটি সবচেয়ে বেড়ে হয়েছিল ২৪.৮ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার (৯.৬ মিলিয়ন বর্গমাইল), যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বড়। দক্ষিণ মেরুর কাছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের কাছে ৬ কিলোমিটার (৪ মাইল) পুরু অংশে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ওজোন স্তর প্রায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন থাকার বিষয়টিও বিজ্ঞানীরা ধরতে পেরেছিলেন।

নাসা এবং কমপ্লিমেন্টারি ইনস্ট্রুমেন্টাল মেথডে ওজোন স্তরের গর্তটি পর্যবেক্ষণ করেছে। নাসার অরা স্যাটেলাইট, নাসা-এনওএএ সুমি এনপিপি স্যাটেলাইট এবং এনওএএ-র জেপিএসএস এনওএএ -20 স্যাটেলাইট মহাকাশ থেকে ওজোন স্তর পরিমাপ করে থাকে। অরার স্যাটেলাইটের মাইক্রোওয়েভ লিম্ব সাউন্ডার ওজোন স্তর ধ্বংসকারী ক্লোরিনের মাত্রাও বের করে।

গত চল্লিশ বছরের মধ্যে এবছর স্যাটেলাইট রেকর্ডে ১২তম বৃহত্তম ওজোন গর্ত দেখা গেছে। তবে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, মন্ট্রিল প্রোটোকল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ওজোন স্তর ক্ষয়কারী রাসায়নিকগুলোর নিঃসরণ হ্রাস পাওয়ায় গর্তটির বড় হওয়া কমেছে এবং ২০ বছর আগের আবহাওয়ায় যেমন ছিল সেই আকৃতিতে রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের ওজোন স্তর বিশেষজ্ঞ এবং প্রধান পৃথিবী বিজ্ঞানী পল নিউম্যান বলেছেন,দক্ষিণ মেরুর কাছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ক্লোরিন ও ব্রোমিনের মাত্রা ২০০০ সালের সর্বোচ্চ অবস্থা থেকে ১৬% কমে এসেছে। তিনি জানান, গর্তটি প্রায় এক মিলিয়ন বর্গমাইল বড় হতে পারত যদি ২০০০ সালের মতো স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে এখনও সে পরিমাণ ক্লোরিন থাকত।

ওজোন স্তর নিয়ে ২০১৯এর চেয়ে এবছরের পরিস্থিতি অন্যরকম হওয়ার কারণ, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে উষ্ণ তাপমাত্রা এবং একটি দুর্বল মেরু ঘূর্ণি পোলার স্ট্র্যাটোস্ফেরিক মেঘ (পিএসসি) তৈরিতে বাধা দিয়েছিল। এ মেঘে থাকা কণাগুলি ওজোন ধ্বংসকারী ক্লোরিন এবং ব্রোমিন যৌগকে সক্রিয় করে। নাসা গডার্ড অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিস স্পেস রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের বিজ্ঞানী সুসান স্ট্রাহান বলেছেন, গত বছর এবং এই বছরের মধ্যে এই স্পষ্ট বৈসাদৃশ্যটিই বলে দিচ্ছে যে, আবহাওয়া ওজোন স্তরের গর্তের আকারকে কীভাবে প্রভাবিত করে।

ওজোন-হ্রাসকারী পদার্থগুলোর নিঃসরণের হার ২০০০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর পর থেকে এগুলি আস্তে আস্তে হ্রাস পেয়েছে। তবে ওজোন স্তরের ক্ষয় চালিয়ে যাওয়ার জন্য জন্য যথেষ্ট পরিমাণ রাসায়নিকের নিঃসরণ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক বছরের আবহাওয়ায় ওজোন স্তরের গর্তটি সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার (৪ মিলিয়ন বর্গমাইল) বেড়েছে।

আপনার মতামত জানান

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন