ধরিত্রী সুরক্ষায় বহুমুখী প্রচেষ্টা

বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র্য নির্মূল ও ধরিত্রী রক্ষায় একযোগে বহুমুখী প্রচেষ্টা চালানোর জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্পেন সরকার আয়োজিত ‘বহুপাক্ষিকতা জোরদারে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে প্রচারিত পূর্বে ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার এ কথা বলেন।

প্রত্যেকে নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়, কোভিড-১৯ মহামারি সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পৃথিবীকে সুরক্ষিত করতে হবে এবং বহুমুখী প্রয়াসকে আরো জোরদার করতে হবে, বলেন তিনি।

আজকের গ্লোবালাইজড বিশ্বে গঠনমূলক বহুমুখীতার কোন বিকল্প নেই জানান শেখ হাসিনা তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে যে, সম্মিলিত কার্যক্রম, একতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরই বৈশ্বিক সমৃদ্ধি নির্ভর করছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই ১৪.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে, যা দেশের জিডিপির ৪.৩%। করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব সত্ত্বেও সরকারের সময় উপযোগী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ৫.২৪% জিডিপি অর্জন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈশ্বিক পর্যায়ে বহুমুখী প্রচেষ্টা না নিলে বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার হবে না এবং কখনোই সেটি টেকসই হবে না, মত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে সাম্প্রতিক সংরক্ষণবাদী প্রবণতা এবং কিছু দেশে বিদেশীদের ব্যাপারে আতঙ্কের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এমন প্রবণতা নিরীহ মানুষের জন্য আরো ভোগান্তি এনে দিতে পারে এবং শান্তিপূর্ণ বহুপাক্ষিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকলকে আন্তর্জাতিক শান্তি, সুরক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর এই জাতীয় ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মত দেন তিনি।

বাংলাদেশকে বহুপক্ষীয়তার পতাকা বাহক উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সর্বোচ্চ উপস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সুরক্ষার পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় বারের মতো ৪৮ সদস্যের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের নেতৃত্বের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত বোধ করছে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত অবস্থান থেকে উন্নয়ন ঘটিয়েছে, এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ও আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত জানান

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন