দরকার ২৮ বিলিয়ন, পাওয়া গেছে ৩ বিলিয়ন

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন যখন কার্যকর হবে, অবশ্যই তা একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের অধীনে সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে, এ কথা বৃহস্পতিবার প্যারিস পিস ফোরামে জোর দিয়ে বলেছেন ইউরোপিয় এবং বিশ্ব নেতারা। এ জন্য এই প্রকল্পে বর্তমানে ২৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অনুমিত হিসাবে বলা হয়, ২০২১ সালে ২০০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ, ২৪৫ মিলিয়ন লোকের চিকিৎসা এবং ৫০০ মিলিয়ন লোকের টেস্টের জন্য এক্সেস টু কোভিড ১৯ টুলস এক্সিলেটরের ৩৮ বিলিয়ন ডলার চাহিদার বিপরীতে ঘোষিত তহবিলের পরিমাণ মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসিস বলেছেন, ২৮.৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে। স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে জরুরি ৪.৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রন প্যারিস পিস ফোরামে বলেছেন, মানবতার কিছু অংশকে ত্যাগ করে ভাইরাসকে পরাস্ত করা অসম্ভব। এ জন্য তিনি ফোরামকে বলেছেন,বিশ্ব চায় বৈশ্বিক ইস্যুর সুনির্দিষ্ট সমাধান। ১১ থেকে ১৩ নভেম্বর তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের লক্ষ্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশী তহবিল সংগ্রহ। দরিদ্র দেশগুলোসহ বিশ্বের সকলের জন্য করোনাভাইরাস টেস্ট, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন সুবিধা নিশ্চিত করা এ তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্য।

ইউরোপ এবং ইউরোপের বাইরেও দ্রুত করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তবে এ ভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি ফাইজার এবং জার্মানির বায়োএনটেক ৯০% কার্যকর এক ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অ্যান্থনি ফাউসি বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন ‘ক্যাভারলি’ আসছে, এমন খবর দিয়েছেন। একদিনে বিশ্বে রেকর্ড ১০ হাজারের বেশী মানুষের জীবন হারানোর খবরের মধ্যে এ ভ্যাকসিন নতুন আশা জাগিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক্সেস টু কোভিড ১৯ টুলস এক্সিলেটর প্রোগ্রামের অধীনে করোনাভাইরাসের টেস্ট, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে অনেক দেশ তহবিল ঘোষণা করবে বলে প্যারিস পিস ফোরামের অনলাইন সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়।

আপনার মতামত জানান

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন